4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: পিলখানা ট্রাজেডিঃ উইকিলিকসের তথ্যঃ হাসিনা,আ.লীগ ও RAW জড়িত -১ > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫

পিলখানা ট্রাজেডিঃ উইকিলিকসের তথ্যঃ হাসিনা,আ.লীগ ও RAW জড়িত -১


 

পিলখানা ট্রাজেডি: উইকিলিকসের আলোচনায় – হাসিনা, আওয়ামী লীগ ও RAW-এর সম্ভাব্য জড়িতকারীরা

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি, বিদ্রোহের আড়ালে, পিলখানা বিডিআর সদর দপ্তরে ঘটে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড। এতে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তা এবং মোট ৭৪ জন নিহত হন।

এই বিশ্বজনিত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য নায়করা এখনও আড়ালেই থাকলেও ৮৫০ জন বিডিআর জওয়ানকে আসামি করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আসামিদের সংখ্যার দিক দিয়ে এটি পৃথিবীর অন্যতম বৃহত্তম হত্যা মামলা। বিশেষ আদালতের বিচারক আখতারুজ্জামান রায় শীঘ্রই রায় ঘোষণা করবেন।

২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় ঘটে যাওয়া এই হত্যাযজ্ঞের বিস্তারিত আজও জাতি ভুলতে পারেনি। তবে উইকিলিকসের মাধ্যমে এই হত্যাযজ্ঞের গোপন নেপথ্যের তথ্য ফাঁস হয়েছে।

সেনাবাহিনীর প্রায় ১১ হাজার পৃষ্ঠার তদন্ত রিপোর্টে ঘটনাস্থল ও মূল নায়ক সম্পর্কে অনেক তথ্য উঠে এসেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই রিপোর্ট থেকে মাত্র ৮০০ পৃষ্ঠা রেখে বাকিটা বাতিল করে দেন। অনলাইন মাধ্যমে জনগণ অনেক তথ্য জানতে পেরেছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি কর্মকর্তা ও সৈনিক জানে – কেন, কীভাবে, এবং কারা এই হত্যাযজ্ঞে যুক্ত ছিলেন। নিচে সংক্ষিপ্তভাবে তা উপস্থাপন করা হলো।


১. RAW-এর ভূমিকা

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা R&AW পরিকল্পনা ও তদারকিতে “পিলখানা হত্যাকাণ্ড” সংগঠিত করে। মূল উদ্দেশ্য ছিল ২০০১ সালের পাদুয়া ও রৌমারীর ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়া এবং বিডিআর বাহিনীকে ধ্বংস করা।

পাদুয়া-রৌমারীর ঘটনায় বাংলাদেশি ১৫০ জন বিএসএফ নিহত হয়েছিল। ভারতের প্রতিশোধমূলক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিডিআর ধ্বংস করার সময় বেছে নেওয়া হয়। ভারতের তরফে মোট ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়, যার মধ্যে ১৫–১৭ কোটি টাকা পিলখানায় হত্যাকারীদের জন্য বরাদ্দ ছিল। ১৯ ও ২১ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত ১৫ জন শুটার বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং বিডিআর পোশাকে লাল টেপযুক্ত অফিসারদের হত্যা করে। ঘটনার দিন সকালে ভারতের টেলিভিশন এই খবরে সম্প্রচার করে।

প্রয়োজনে শেখ হাসিনাকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে ভারত ৩০ হাজার সৈন্য, ছত্রিবাহিনী এবং বিমান প্রস্তুত রাখে।


২. গোয়েন্দা সংস্থার অবহেলা

ঘটনার আগের দিন ঢাকার একটি সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক এনএসআইকে জানায় যে, পিলখানায় বিদ্রোহ হতে যাচ্ছে, যেখানে বিডিআর ও আওয়ামী লীগের নেতারা জড়িত। কিন্তু এনএসআই সাংবাদিককে বিষয়টি চাপা দিতে বলে। ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর সফরের দিন পিলখানা অস্ত্রাগার থেকে ৩টি এসএমজি খোয়া যায়। সেনা অফিসাররা পাহারায় থাকলেও বিদ্রোহের পূর্বাভাস সত্ত্বেও উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।


৩. জেনারেল মইন উ আহমেদ

তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন বিদ্রোহের পরিকল্পনার সাথে জড়িত ছিলেন। ভারতের নির্দেশে তিনি বিডিআরে কর্মকর্তাদের জড়ো করেন। হত্যাযজ্ঞের সময় ডিজি শাকিল ও অন্যান্য অফিসার তাকে ফোনে অবহিত করার পরও কোনো ব্যবস্থা নেননি। মইনের পদক্ষেপের অভাবে হত্যাকাণ্ড সম্ভব হয়।


৪. সজীব ওয়াজেদ জয়

শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় পূর্ব থেকেই সেনাবাহিনীর উপর ক্ষিপ্ত ছিলেন। তিনি সেনাবাহিনী পুনর্গঠন এবং মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের হ্রাসের পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর জয় দুবাই যান এবং হত্যাকারীদের নগদ পুরস্কৃত করার খবর প্রকাশিত হয়।


৫. শেখ ফজলে নূর তাপস

শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে তাপস ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পিলখানার কাছে স্থানীয় জনগণকে সরিয়ে হত্যাকারীদের নিরাপদে সরানোর ব্যবস্থা করেন।


৬. মীর্জা আজম

যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মীর্জা আজম হত্যাযজ্ঞে সরাসরি জড়িত ছিলেন। তিনি কর্নেল গুলজারের হত্যার নির্দেশ দেন এবং দেহ ধ্বংসের ব্যবস্থা করেন।


৭. জাহাঙ্গীর কবির নানক

এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী নানক বিদ্রোহী দলের সাথে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন। তিনি বিদ্রোহীদের নিরাপদে প্রধানমন্ত্রীর কাছে মিটিং করিয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।


৮. সাহারা খাতুন

হত্যাযজ্ঞের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুন কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেননি। তিনি কেবল বিদ্রোহীদের সঙ্গে সমঝোতা করার মাধ্যমে নিহতদের নিরাপদে সরানোর ব্যবস্থা করেননি।


৯. শেখ সেলিম

শেখ সেলিম, শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই, সেনাবাহিনীর উপর ক্ষিপ্ত। পিলখানা হত্যার আগে বিদ্রোহী দলের সঙ্গে একাধিক সভায় অংশ নেন।


১০. সোহেল তাজ

সোহেল তাজ বিদেশী হত্যাকারীদের নিরাপদে বিদেশে পাঠানোর দায়িত্বে ছিলেন।


১১. কর্নেল ফারুক খান

তিনটি তদন্ত কমিটির সমন্বয়ক কর্নেল ফারুক খান জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি মূল তদন্ত রিপোর্ট পরিবর্তন করে বিকৃত রিপোর্ট তৈরী করেন।


১২. হাজী সেলিম

লালবাগ এলাকার সাবেক এমপি হাজী সেলিম হত্যাকারীদের রাজনৈতিক সমর্থন দেন। ঘটনার দিন তিনি বিদ্রোহীদের সহায়তা ও নিরাপদ পাসেজ নিশ্চিত করেন।


১৩. তোরাব আলী ও লেদার লিটন

৪৮ নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতারা পিলখানা হত্যাকারীদের পরিকল্পনায় সমর্থন দেন।



কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

ব্যাফোমেট, কুফুরী বিদ্যা ও ইলুমিনাতির আদ্যোপান্ত

  মানবজাতির ইতিহাসের সূচনা হয়েছে হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সৃষ্টি করার পর ফেরেশতাদের সঙ্গে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দেন এ...