হাদী হত্যাকাণ্ডের চেষ্টা: রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের নেপথ্য এবং সত্যের জয়
গতকালকে ওসমান হাদীকে লক্ষ্য করে যে হত্যাকাণ্ডের চেষ্টা চালানো হয়েছে, তা স্বাভাবিক দৃষ্টিতে দেখলে সহজেই বোঝা যায়। একজন শিশুও সহজেই বলতে পারবে যে এই ঘটনা কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে ঘটনার নেপথ্য, ষড়যন্ত্র এবং পরিকল্পনার দিকটি অনেক বেশি জটিল। ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট যে, হাদীর উপর হামলার মূল নায়করা প্রত্যক্ষভাবে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে যুক্ত। তবে তাদের মাঠে থাকা কর্মীরা ত্রুটি করেছেন না; বরং তাদের পরিকল্পনা ও কৌশল এমন একটি বুমেরাং হয়ে ফিরে এসেছে, যা ঘটনার প্রকৃত রহস্য উন্মোচন করেছে।
এর আগে আমরা ৪২০ নাটকের ঘটনা মনে করতে পারি। ওই নাটকে মন্টু ও কিসলু গ্রাম থেকে চুরি করে ধরা পড়ার ভয়ে ঢাকায় চলে আসে। শহরে এসে তারা কমিশনারের লোক হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে নিজে কমিশনারকে হত্যা করে। এরপর তারা মিছিল-মিটিং ও প্রতিবাদের মাধ্যমে কম্যুনিটি ও রাজনৈতিক চক্রকে এমনভাবে পরিচালনা করে যে, বিরোধী দলের একজন নেতাকে মিথ্যাভাবে আটকানো হয়। এখান থেকেই স্পষ্ট হয়, যখন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য নানান ষড়যন্ত্র করা হয়, তখন সত্য ও ন্যায়ের উপর নিয়মিত আঘাত ঘটে।
আমি সাধারণত মানুষের মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ডকে নিরপেক্ষভাবে বিচার করার চেষ্টা করি। কিন্তু হাদী হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে মনে হলো, আমাদের দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এমন যে, কোনো দলের ভুলের রাজনীতি বারবার প্রথম হয়ে আসে। গতকাল হাদীকে গুলি করে আহত করার সাথে সাথে একটি বড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—যিনি ঢাকার বাইরে অবস্থান করছিলেন—সরাসরি আওয়ামী লীগের নাম না নিয়ে বলেছেন, "চাঁদাবাজ ও গ্যাংস্টাররা এই কাজ করেছে।" অর্থাৎ, প্রকৃত হত্যাকারী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নজর সরানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
এই ঘটনার মধ্যে মীর্জা আব্বাসকে ভিলেন বানানোর যে কৌশল নেওয়া হয়েছে, তা দুটি উদ্দেশ্য হাসিল করতে চেয়েছিল। প্রথমত, জনসাধারণের মনে এমন একটি ন্যারেটিভ তৈরি করা যে, হত্যাকাণ্ডে মীর্জা আব্বাস জড়িত। দ্বিতীয়ত, যদি মীর্জা আব্বাসকে কোনোভাবে নিঃসন্তুষ্ট বা অক্ষম করা যায়, তাহলে তার কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে সেই পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া দেখাবে। এই ধরনের অপরাজনীতি একটি দমনে ভরা রাজনীতির উদাহরণ।
কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী, সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী। জামায়াত-শিবির দুটো লক্ষ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং, হেলিকপ্টার ভিপি’র সমালোচিত কার্যক্রম জাতির মাঝে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একজন রাজনীতিবিদ আক্রান্ত হলে, অন্যান্য অনেক রাজনীতিবিদ যেভাবে এগিয়ে আসে, হাদীর ঘটনায়ও তা প্রমাণিত হয়েছে। মীর্জা আব্বাস, হাসনাত এবং অন্যান্য অনেক নেতা ঘটনা ঘিরে এগিয়ে এসেছেন। আর যারা ভুয়া স্লোগান দিয়েছে, তারা একই দিনে জামায়াতের আমিরকে অভ্যর্থনা জানিয়েছে। এটি স্পষ্ট করে যে, মানুষের সত্যিকারের প্রতিক্রিয়া এবং রাজনৈতিক কৌশল প্রায়শই বিপরীত ফলাফল দেয়।
এই ঘটনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, জামায়াত-শিবিরের কাছে একটিমাত্র আহ্বান থাকা উচিত—ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অভ্যাস ত্যাগ করা। সুযোগ পেলেই কাউকে অপমান করা, ভিক্টিম সেজে রাজনৈতিক লাভ হাসিল করার চেষ্টা, এগুলো দেশের জন্য ক্ষতিকর। ইতিহাস প্রমাণ করে, কাউকে অপমান করলে সেই অপমান আরও বড় আকার নেয় এবং সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শেখ হাসিনার নেতৃত্ব থেকে এটিই শিখতে হবে—সঠিক পথে থেকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।
হেলিকপ্টার ভিপিকে বিশেষভাবে বলা যায়, মুখস্ত বক্তব্য দেওয়া বন্ধ করুন। রাজনৈতিক সহযোগিতার পথকে বারংবার রুদ্ধ করা এবং ভুল তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা দেশের জন্য ক্ষতিকর। এখন সময় এসেছে সত্যের রাজনীতি করার। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে, দেশের তরুণ প্রজন্মকে সাথে নিয়ে আলোকিত এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।
হাদী হত্যাকাণ্ডের এই চেষ্টা প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের রাজনীতি এখনো ষড়যন্ত্র এবং অপরাজনীতির দ্বারা প্রভাবিত। কিন্তু জনগণ এখনো সচেতন এবং ন্যায়ের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। সঠিক নেতৃত্ব এবং সত্যের পথে থাকা রাজনৈতিক দলগুলি এই ধরনের ষড়যন্ত্রকে পরাস্ত করতে সক্ষম।
এখানে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে তুলে ধরা যায়:
-
মূল হত্যাকারীর অভিসন্ধি: হাদীর উপর হামলার পরিকল্পনা ছিল জামায়াত-শিবিরের, কিন্তু মাঠে কর্মীরা সঠিকভাবে তা সম্পন্ন করতে পারেনি।
-
রাজনৈতিক অপরাজনীতি: মীর্জা আব্বাসকে ভিলেন বানানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এতে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা এবং রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন করা উদ্দেশ্য ছিল।
-
সত্যের জয়: সত্য অবশেষে জয়ী হয়। জামায়াত-শিবির তাদের উদ্দেশ্য পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।
-
প্রতিক্রিয়াশীল নেতৃত্ব: হাদী হত্যাকাণ্ডের পরে অন্যান্য রাজনীতিবিদরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে সমর্থন প্রদান করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, জনগণ এবং ন্যায়পরায়ণ রাজনৈতিক নেতারা একত্রিত হয়ে ষড়যন্ত্রকে প্রতিহত করতে পারে।
-
অপরাজনীতি থেকে শিক্ষা: জামায়াত-শিবিরের মতো দলগুলোকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার এবং ভিক্টিমের উপর আক্রমণ চালানোর অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।
-
সত্যের রাজনীতি: হেলিকপ্টার ভিপি’র উদাহরণ দেখায়, মুখস্ত বক্তব্য ও বিভ্রান্তি ছাড়া সত্যের পথে রাজনীতি করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
এই সমস্ত বিশ্লেষণ থেকে একটি মূল শিক্ষা পাওয়া যায়—সত্যের রাজনীতি না হলে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র এবং অপরাজনীতি সমাজে ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলে। বাংলাদেশে যারা সত্য এবং ন্যায়ের পথে থাকে, তারা ভবিষ্যতের প্রজন্মকে সঠিক দিকনির্দেশ দিতে পারে।
শেখ তানভীর বারী হামিম ভাইয়ের মন্তব্য এবং বিশ্লেষণ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দেশের রাজনীতি শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং ন্যায়, সত্য এবং সমাজকল্যাণের জন্য। প্রতিটি হত্যাকাণ্ড বা হত্যার চেষ্টার পেছনে রাজনৈতিক কৌশল থাকতে পারে, কিন্তু জনগণের সচেতনতা এবং সত্যিকারের নেতৃত্ব সব সময় চূড়ান্ত জয় নিশ্চিত করে।
অতএব, হাদী হত্যাকাণ্ডের চেষ্টা শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক হামলা নয়, বরং এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সঠিক নেতৃত্ব এবং সত্যের পথে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোই দেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে। জামায়াত-শিবিরের মতো অপরাজনীতির দলগুলো সময়মতো তাদের কর্মকাণ্ড পুনর্বিবেচনা না করলে, ভবিষ্যতেও তারা বারবার ব্যর্থ হবে।
এই প্রবন্ধটি প্রমাণ করে, রাজনীতি শুধুমাত্র ক্ষমতার খেলা নয়; এটি সত্য, ন্যায় এবং জনসেবার জন্য। হাদী হত্যাকাণ্ডের চেষ্টা, নেপথ্য ষড়যন্ত্র এবং সত্যের জয়—সবকিছুর মধ্যে শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। আমাদের উচিত এই শিক্ষাগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে, দেশে একটি আলোকিত, শান্তিপূর্ণ এবং সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ