4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: জামায়াতে ইসলামী: আদর্শিক দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক পল্টিবাজি ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী ভূমিকার ধারাবাহিক ইতিহাসঃ > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

রবিবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

জামায়াতে ইসলামী: আদর্শিক দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক পল্টিবাজি ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী ভূমিকার ধারাবাহিক ইতিহাসঃ

 


জামায়াতে ইসলামী: আদর্শিক দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক পল্টিবাজি ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী ভূমিকার ধারাবাহিক ইতিহাসঃ

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে জামায়াতে ইসলামী একটি বহুল আলোচিত, বিতর্কিত এবং দ্বিধাবিভক্ত অবস্থানে থাকা দল। দলটি নিজেদের “ইসলামি আন্দোলন” হিসেবে পরিচয় দিলেও বাস্তব রাজনৈতিক আচরণ, অবস্থান পরিবর্তন ও ঐতিহাসিক ভূমিকা সেই দাবিকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ১৯৪৭ সালের পূর্ববর্তী সময় থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পর্যন্ত জামায়াতের ভূমিকা পর্যালোচনা করলে আদর্শিক অসংগততা, ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতি এবং জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের একটি দীর্ঘ ধারাবাহিকতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।


পাকিস্তান বিরোধিতা থেকে পাকিস্তানপ্রীতি: মওদূদীর দ্বিচারিতাঃ

জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা আবুল আলা মওদূদী ১৯৪৭ সালের আগে দ্বিজাতিতত্ত্ব ও পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেন। তাঁর মতে, মুসলমানদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র নয়, বরং আদর্শিক ইসলামি সমাজই মুখ্য। অথচ পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর তিনি স্বেচ্ছায় পাকিস্তানে চলে যান এবং সেখানেই জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক কার্যক্রম বিস্তৃত করেন। এই অবস্থান পরিবর্তন জামায়াতের আদর্শিক স্থিরতার প্রশ্ন তোলে।


১৯৭১: মুক্তিযুদ্ধবিরোধিতা ও জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতাঃ

১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তান স্বাধীন হয়ে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জামায়াতে ইসলামী সরাসরি বিরোধিতা করে। দলটির শীর্ষ নেতারা পাকিস্তানি সামরিক জান্তার সহযোগী হিসেবে রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বাহিনী গঠনে ভূমিকা রাখে—যার মাধ্যমে গণহত্যা, ধর্ষণ ও বুদ্ধিজীবী হত্যার মতো ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়। স্বাধীনতার পর জামায়াত নেতাদের একটি বড় অংশ বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে অস্বীকার করে পাকিস্তানে চলে যায়, যা একটি সদ্য স্বাধীন দেশের প্রতি চরম অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ।


ক্ষমতার মোহে প্রত্যাবর্তন: ১৯৭৭ সালের রাজনীতিঃ

১৯৭৫-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ১৯৭৭ সালে জামায়াত নির্লজ্জভাবে আবার বাংলাদেশে ফিরে এসে রাজনীতি শুরু করে। যুদ্ধাপরাধের দায় স্বীকার বা জাতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা না করেই রাজনৈতিক পুনর্বাসনের এই প্রচেষ্টা ছিল নৈতিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।


জিয়ার ভূমিকা অস্বীকার ও এরশাদের সঙ্গে আঁতাতঃ

মেজর জিয়াউর রহমান জামায়াতকে রাজনৈতিক বৈধতা দিলেও পরবর্তীতে জামায়াত সেই ভূমিকা অস্বীকার করে। ১৯৮৬ সালে তারা স্বৈরাচার এরশাদের সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে—যে নির্বাচন ছিল প্রশ্নবিদ্ধ ও গণতন্ত্রবিরোধী। আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, ওই নির্বাচনে অংশ নিতে জামায়াত আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে এরশাদকে বৈধতা দিতে ভূমিকা রাখে, যা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।


পল্টিবাজির রাজনীতি: বিএনপি–আওয়ামী লীগের সঙ্গে পালাক্রমে জোটঃ

১৯৯১ সালে জামায়াত বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে সরকার গঠন করে। কিন্তু ক্ষমতার হিসাব বদলাতেই তারা পল্টি দিয়ে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে মিলে বিএনপি সরকার হটাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে নামে। এই অবস্থান পরিবর্তন আদর্শ নয়, বরং ক্ষমতার রাজনীতিকেই জামায়াতের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে প্রমাণ করে।


সংবিধান ও আদর্শ বিসর্জনঃ

একসময় জামায়াত তাদের দলীয় সংবিধানে “শরীয়া রাষ্ট্র” কায়েমের কথা বললেও পরবর্তীতে তা বাদ দিয়ে “কল্যাণরাষ্ট্র”-এর কথা যুক্ত করে। একইভাবে দলীয় লোগো থেকে আল্লাহর নাম ও “দ্বীন কায়েম”-এর স্লোগান সরিয়ে ফেলা হয়। এসব পরিবর্তন জামায়াতের ইসলামি আদর্শের দাবিকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে।


ইসলামি দল হয়েও ধর্মীয় দ্বিচারিতাঃ

নিজেদের ইসলামি দল হিসেবে দাবি করলেও জামায়াতের নেতারা পূজামণ্ডপে উপস্থিত হওয়া, পূজা নিয়ে অতিরঞ্জিত বক্তব্য এবং হিন্দু তোষণের প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়েন—যা ধর্মীয় সহাবস্থানের চেয়েও রাজনৈতিক সুবিধাবাদকে বেশি প্রকাশ করে। ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে এই আচরণ অনেক আলেম ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।


কোরআনের অপব্যাখ্যা ও আলেমদের ব্যবহারঃ

জামায়াত সংশ্লিষ্ট কিছু আলেম দলীয় স্বার্থে কোরআনের অপব্যাখ্যা করেন—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এতে করে সাধারণ মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়, যা ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুতর অপরাধ।


আপত্তিকর বক্তব্য ও হাস্যকর ব্যাখ্যাঃ

শাহজাহান চৌধুরীর একাধিক আপত্তিকর বক্তব্য, শিশির মনিরের রোজা ও পূজা নিয়ে বিতর্কিত ব্যাখ্যা এবং “সূর্য দাঁড়িয়ে ছিল”—জাতীয় পর্যায়ে হাস্যরস ও সমালোচনার জন্ম দেয়। এসব বক্তব্য জামায়াতের বুদ্ধিবৃত্তিক ও ধর্মীয় মানদণ্ডকে প্রশ্নের মুখে ফেলে।


বিএনপি ও অন্যান্য দলের সঙ্গে সংঘাতঃ

একসময় ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের হানাহানি, দোষারোপ ও রাজনৈতিক দূরত্ব স্পষ্ট হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপির সঙ্গে “জুলাই সনদ” নিয়ে জামায়াতের পল্টিবাজি আবারও প্রমাণ করে যে, দলটি কোনো স্থায়ী নীতিতে বিশ্বাসী নয়।


সাম্প্রতিক আপত্তিকর কর্মকাণ্ডঃ

বর্তমানে জামায়াতের বিভিন্ন কর্মসূচি, বক্তব্য ও কৌশল আবারও বিতর্ক সৃষ্টি করছে। যুদ্ধাপরাধের প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া, ইতিহাস বিকৃতি, তরুণদের আবেগকে ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের “মডারেট” হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা—সব মিলিয়ে জামায়াতের রাজনীতি এখনো প্রশ্নবিদ্ধ।


উপসংহারঃ

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের ইতিহাস মূলত আদর্শিক দ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক সুবিধাবাদ ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের ইতিহাস। ইসলামি আদর্শের কথা বলে শুরু হলেও বাস্তবে দলটি বারবার সেই আদর্শ থেকে সরে এসে ক্ষমতার রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—যে দল স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, যুদ্ধাপরাধের দায় স্বীকার করেনি এবং বারবার পল্টিবাজি করেছে, তারা জাতির আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হতে বাধ্য। তাই জামায়াতের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে তাদের অতীতের দায় স্বীকার, আদর্শিক স্বচ্ছতা ও সত্যিকারের আত্মসমালোচনার ওপর—যার কোনো দৃশ্যমান লক্ষণ এখনো স্পষ্ট নয়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

ব্যাফোমেট, কুফুরী বিদ্যা ও ইলুমিনাতির আদ্যোপান্ত

  মানবজাতির ইতিহাসের সূচনা হয়েছে হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সৃষ্টি করার পর ফেরেশতাদের সঙ্গে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দেন এ...