✦ সাম্প্রদায়িকতার নামে আকীদাহর বিপর্যয়: কুরআনের মানদণ্ডে ইসলামের সীমারেখা,যেনো আমড়া গাছে ঢেঁকী বানানোর পরিকল্পনা ✦
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু নামধারী ইসলামী দল যে কার্যকলাপে লিপ্ত হয়েছে, তা গভীরভাবে চিন্তার দাবি রাখে। এ বছর তারা প্রকাশ্যভাবে হিন্দুদের পূজা-পার্বণে অংশগ্রহণ করেছে—যা শুধু উপস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং মূর্তির সামনে মাথানত করা, পূজার প্রসাদ গ্রহণ, গীতা পাঠ এবং এমনকি কৃষ্ণের উদ্দেশ্যে প্রকাশ্যে আবেগপ্রবণ হয়ে কান্না করার ঘটনাও ঘটেছে।
এই দলগুলো তাদের কর্মকাণ্ডের পক্ষে যে যুক্তি দাঁড় করিয়েছে, তা হলো—“সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা”। তারা দাবি করেছে, রোজা ও পূজা নাকি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। অথচ বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর আজ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই দলগুলোর মুখে এমন সম্প্রীতির ভাষ্য খুব একটা শোনা যায়নি। বরং অতীতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে কেউ পূজামণ্ডপে গেলেও, তারাই তাকফীরের ফতোয়া দিয়ে তাকে কাফের ঘোষণা করতে দ্বিধা করেনি।
বিস্ময়কর বিষয় হলো—যে কাজগুলো তারা এক বছর আগেও প্রকাশ্যে কুফরি ও হারাম বলে ঘোষণা করেছিল, আজ ঠিক সেই কাজগুলোই নিজেদের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক স্বার্থে জায়েজ করে নিচ্ছে। “যদি”, “কিন্তু”, “পরিস্থিতির দাবি” ইত্যাদি শব্দের আশ্রয় নিয়ে তারা কুফরিকে হালাল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি কুরআনের আইন প্রণয়নের নামে সংসদে অমুসলিম ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে—যা বাস্তবিক অর্থেই আমড়া গাছ দিয়ে ঢেঁকি বানানোর কল্পনার শামিল।
আরও উদ্বেগজনক হলো, এসব সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলে উল্টো সমালোচকদেরই কাফের আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ কুফরি কাজের বিরোধিতা করা আজ তাদের দৃষ্টিতে অপরাধে পরিণত হয়েছে।
অথচ এই সব নামধারী ও ফ্যাসিবাদী ইসলামী দলের পূজায় অংশগ্রহণের পক্ষে যত যুক্তিই দেওয়া হোক না কেন, আল্লাহ তাআলা কুরআনে সুস্পষ্টভাবে এসব যুক্তিকে একেবারে বাতিল ঘোষণা করেছেন।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
وَ مَنْ یَّبْتَغِ غَیْرَ الْاِسْلَامِ دِیْنًا فَلَنْ یُّقْبَلَ مِنْهُ ۚ وَ هُوَ فِی الْاٰخِرَةِ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ
এ আনুগত্য (ইসলাম) ছাড়া যে ব্যক্তি অন্য কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করতে চায়, তার সে পদ্ধতি কখনোই গ্রহণ করা হবে না এবং আখেরাতে সে হবে ব্যর্থ, আশাহত ও বঞ্চিত।
(সূরা আলে-ইমরান, আয়াত: ৮৫)
এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা একটি সর্বজনীন ও চূড়ান্ত নীতি ঘোষণা করেছেন। তা হলো—
আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য একমাত্র দীন হলো ইসলাম।
এখানে “ইসলাম” বলতে কেবল একটি নামধারী ধর্ম বোঝানো হয়নি; বরং বোঝানো হয়েছে—
আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ,
তাঁর বিধান ও নির্দেশের সামনে নিঃশর্ত আনুগত্য,
এবং তাঁর প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ–এর পরিপূর্ণ অনুসরণ।
আল্লাহ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো জীবনব্যবস্থা, বিশ্বাসপদ্ধতি বা দীন—
তা যতই আকর্ষণীয় মনে হোক,
যতই যুক্তিনির্ভর বা সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য হোক,
অথবা পূর্ববর্তী কোনো নবীর শরীয়তের অংশ বলে দাবি করা হোক—
আল্লাহর দরবারে কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না।
কারণ রাসূল মুহাম্মাদ ﷺ–এর আগমনের মাধ্যমে পূর্ববর্তী সব শরীয়ত মানসুখ (রহিত) হয়ে গেছে। এখন আল্লাহর নিকট পৌঁছার একমাত্র পথ হলো ইসলাম।
যারা এই অকাট্য সত্য অস্বীকার করে ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো পথ অবলম্বন করবে, আল্লাহ ঘোষণা করেছেন—
তারা আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
অর্থাৎ তারা সেদিন—
- মুক্তি লাভ করবে না,
- আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করবে না,
- জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে,
- এবং তাদের সব আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে।
✦ মূল শিক্ষা ✦
- আল্লাহর নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ্য দীন হলো ইসলাম
- ইসলাম মানে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণ
- রাসূল ﷺ–এর অনুসরণ ছাড়া কোনো আমল গ্রহণযোগ্য নয়
- ইসলাম ছাড়া অন্য যে কোনো দীন আখিরাতে ধ্বংসের কারণ
এখন সুস্পষ্টভাবে বোঝা যায়—ইসলামী দলগুলো যে কল্যাণের কথা বলে, যে অজুহাতে তারা পূজায় অংশগ্রহণ করছে এবং সংসদে কুরআনের আইন বাস্তবায়নের নামে অমুসলিম প্রতিনিধি বানাচ্ছে—তা বাস্তবে কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে না। বরং এসব কাজ আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য নয়।
আজ ইসলামী দলগুলো ইসলামের কল্যাণের নামে যে পথগুলো বেছে নিচ্ছে, সেগুলো সত্যিই সঠিক কি না—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যদি মানুষ নিজ বিবেক দিয়ে চিন্তা করে, তাহলেই প্রকৃত বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে যাবে।
তারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য যেসব পথে কল্যাণ খুঁজছে—
১. গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা
অথচ কুরআনে বর্ণিত পদ্ধতি এবং রাসূল ﷺ–এর দেখানো পথ গণতন্ত্র নয়। তাহলে আল্লাহ ঘোষিত পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে ইসলাম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা কি আদৌ গ্রহণযোগ্য হতে পারে? ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—পৃথিবীর কোনো দেশেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
২. ক্ষমতার মই হিসেবে কুফরি কার্যকলাপকে বৈধ করা
পূজায় অংশগ্রহণ, প্রসাদ গ্রহণ, মূর্তির সামনে মাথানত করা, কৃষ্ণপ্রেমে কান্না করা—এসবই স্পষ্ট কুফরি। আবার ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য অমুসলিমদের নেতৃত্ব মানা এবং গণতন্ত্রকে ইসলাম প্রতিষ্ঠার মাধ্যম বানানো—সবই শরিয়তবিরোধী ও হারাম।
অতএব, এসব অনৈসলামিক ও কুফরিভিত্তিক উপায়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠা তো দূরের কথা—বরং এগুলো নিজেই হারাম, এবং আল্লাহ তাআলা কখনোই এসব কার্যকলাপ গ্রহণ করবেন না।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ