“Forces Goal 2030” হলো বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী আধুনিকীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি পরিকল্পনা, যার লক্ষ্য ২০২০-এর দশকের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি প্রযুক্তি আধুনিক, প্রতিরক্ষা-সমর্থ, মাল্টি-ডাইমেনশনাল সামরিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা।(Wikipedia)
1. পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য
Forces Goal 2030 পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্যমাত্রা নিম্নে বর্ণনা করা হলো:
আধুনিক ও প্রযুক্তিভিত্তিক সশস্ত্র বাহিনী গঠন: সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর প্রতিটি শাখাকে আধুনিক সমরাস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং কৌশলগত সক্ষমতায় উন্নীত করা।(Wikipedia)
বাহিনীর আকার ও কাঠামো বৃদ্ধি: সামরিক ইউনিট, ডিভিশন ও বিশেষ বাহিনীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং পুনরগঠন।(Wikipedia)
দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়ন: নিজস্ব সরঞ্জাম, যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো।(Wikipedia)
2. তিনটি প্রধান শাখার অন্তর্ভুক্তি
(ক) বাংলাদেশ সেনাবাহিনী
নতুন পদাতিক ডিভিশন ও ব্রিগেড গঠন।(Wikipedia)
আধুনিক প্যারা কমান্ডো ও বিশেষ অপারেশন ইউনিটের উন্নয়ন।(Facebook)
উন্নত অস্ত্র, APC/IFV, এবং আগ্নেয়াস্ত্র যোগ করা।(Military Wiki)
(খ) বাংলাদেশ নৌবাহিনী
ত্রিমাত্রিক নৌবাহিনী গঠন এবং নতুন ঘাঁটি স্থাপন।(Wikipedia)
সাবমেরিন, ফ্রিগেট, পেট্রোল ও সাপোর্ট শিপ সহ বহর সম্প্রসারণ।(Wikipedia)
(গ) বাংলাদেশ বিমান বাহিনী
আকাশ প্রতিরক্ষা, মাল্টি-মিশন বিমান, এবং প্রশিক্ষণ ইউনিটের আধুনিকীকরণ।(Wikipedia)
নতুন বিমান ঘাঁটি স্থাপন ও অ্যাডভান্সড জেট ট্রেনিং ইউনিট।(Wikipedia)
3. সামরিক সরঞ্জাম ও ক্ষমতা বৃদ্ধি
এই পরিকল্পনা অনুযায়ী বিভিন্ন আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম অর্জন বা ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে:
ট্যাঙ্ক, APC ও MLRS (যেমন VT-5, Nora B-52) সৈন্য বাহিনীর জন্য।(The Diplomat)
সাবমেরিন, ফ্রিগেট এবং সমুদ্রীয় প্ল্যাটফর্ম নৌবাহিনীর জন্য।(Wikipedia)
উচ্চ প্রযুক্তির বিমান, রাডার ও এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম বিমান বাহিনীর জন্য।(Bangladesh Military Forces)
ড্রোন, মাল্টি-রোল হেলিকপ্টার (যেমন T129 ATAK) বিষয়েও আলোচনা চলছে।(Defence Security Asia)
4. কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
পরিকল্পনা শুধুমাত্র সরঞ্জাম অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি খতমোগত নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সমুদ্র ক্ষেত্র এবং প্রতিবেশী সম্পর্কের মতো বাস্তবিক সামরিক প্রেক্ষাপটকে অগ্রাধিকার দেয়।(BIPSS)
এখনো বাস্তবায়নের ধাপগুলির নির্দিষ্ট সময়সীমা ও বাজেট বিবেচনায় ধারাবাহিক উন্নয়ন ও পরিবর্তন হতে পারে।(Aviation Week Network)
সংক্ষেপে
বাংলাদেশের সামরিক ভিশন ২০৩০ (Forces Goal 2030) একটি স্বতন্ত্র, আধুনিক ও সক্ষম সামরিক বাহিনী গড়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা, যার লক্ষ্য:
বাহিনীর আকার ও প্রযুক্তিগত শক্তিশালী করা
দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশ
মাল্টি-ডাইমেনশনাল (ভূমি, জল ও আকাশ) সামরিক সক্ষমতা অর্জন
২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার স্থিতিশীল ও দক্ষ প্রতিরক্ষা শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।(Wikipedia)
নিচে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর “Forces Goal 2030”-এর ক্রমান্বয়ে সময়রেখা (timeline), প্রতিটি বাহিনীর নির্দিষ্ট প্রকল্পের তালিকা ও সাম্প্রতিক উন্নয়ন ও ব্যয়ের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেওয়া হলো। তথ্যগুলোর উৎস ও বিশ্লেষণ মূলত প্রকাশিত নথি, গবেষণা ও সাম্প্রতিক সংবাদ/বিশ্লেষণ থেকে সংগৃহীত। (Wikipedia)
I. ক্রমান্বয়ে সময়রেখা (Timeline)
২০০৯–২০১২: পরিকল্পনা প্রণয়ন ও সূচনা
Forces Goal 2030 পরিকল্পনা প্রথম প্রণয়ন ও অনুমোদন হয় ২০০৯ সালে। (Wikipedia)
এরই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক মূল্যায়ন ও কাঠামোগত রূপরেখা তৈরি করা হয়, এবং কিছু ক্রয়/আধুনিকায়ন কার্যক্রম শুরু হয় পরবর্তী বছরগুলিতে। (Grokipedia)
২০১২–২০১7: দফায় দফায় বাস্তবায়ন ও প্রথম পর্যায়ের কর্মসূচি
২০১২ সালের দিকে পরিকল্পনা প্রথমবার সাধারণভাবে প্রকাশ হয়। (Military Wiki)
সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর জন্য নির্দিষ্ট সরঞ্জাম, ইউনিট ও অবকাঠামো ক্রয়/প্রতিষ্ঠা করা শুরু হয়। (Wikipedia)
২০১৭: বড় সংস্করণ ও পুনঃগঠন
২০১৭ সালে Forces Goal 2030 আধিকারিকভাবে আপডেট ও পুনঃগৃহীত হয়, যার ফলে পরিকল্পনায় বেশি স্পষ্ট লক্ষ্য, ক্রয়ের তালিকা ও আধুনিকায়নের সময়রেখা যুক্ত হয়। (Wikipedia)
২০১৮–২০২০: বহর সম্প্রসারণ ও ইউনিট বৃদ্ধি
নতুন ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন, ক্যান্টনমেন্ট, রাডার ও অন্যান্য ইউনিট স্থাপনা দ্রুত বাস্তবায়িত হয়। (Wikipedia)
বাহিনীর তিনটি শাখায় সামগ্রিক ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্রয় কার্যক্রম ত্বরান্বিত হয়। (Wikipedia)
২০২১–২০২৩: আধুনিক প্ল্যাটফর্ম ও শক্তি বৃদ্ধি
আইনগত ও কৌশলগত পরিবর্তন, যেমন অত্যাধুনিক বাহন, দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিয়োগ ইত্যাদি আরও ত্বরান্বিত হয়। (Defence Security Asia)
বিমান বাহিনীর নতুন বেস, রাডার ও প্রশিক্ষণ ইউনিট স্থাপনের কাজ এগিয়ে চলে। (Google Translate)
২০২৪–২০২৫: পরিকল্পনার মূল্যায়ন ও নয়া ক্রয় পরিকল্পনা
সাম্প্রতিক সময়ে পরিকল্পনা পুনঃমূল্যায়ন ও সংশোধনের প্রস্তাব চলছে যাতে নতুন তরুণ প্রযুক্তি ও প্রযুক্তি স্থানান্তর অন্তর্ভুক্ত হয়। (Bangladesh Military Forces)
বিমান বাহিনীর ২০২৫–৩০ রূপান্তরের জন্য ক্রয়ের পরিকল্পনাও বিশ্লেষিত হচ্ছে। (Bangladesh Military Forces)
II. প্রতিটি বাহিনীর নির্দিষ্ট প্রকল্প ও ক্রয়ের তালিকা
নীচের প্রকল্পগুলো Forces Goal 2030-এর অংশ হিসেবে বাস্তবায়ন বা পরিকল্পিত হয়েছে:
(ক) বাংলাদেশ আর্মি (Army)
ইউনিট ও কাঠামোগত উন্নয়ন
নতুন ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশন ও ব্রিগেড প্রতিষ্ঠা (উদাহরণ: ১৭ তম ডিভিশন Sylhet-এ, কক্সবাজারে ১০ তম ডিভিশন, বরিশালে অপেক্ষমান)। (Wikipedia)
৯৯তম কমপোজিট ব্রিগেড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পদ্মা সেতু নিরাপত্তার উদ্দেশ্যে। (Wikipedia)
সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্র
ট্যাঙ্ক এবং APC/IFV: ৪৪টি VT-5 light tank, MBT-2000 ট্যাঙ্ক ইত্যাদি। (Wikipedia)
আর্টিলারী ও রকেট সিস্টেম: Nora B-52, TRG-300 Rocket System। (Wikipedia)
এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম: FM-90C, RBS-70 NG ও Ground Master 400 রাডার। (Wikipedia)
হেলিকপ্টার ও পরিবহন বিমান: Mil Mi-171Sh, Bell 407, C-295 বাৎসরিক ডেলিভারি। (Wikipedia)
(খ) বাংলাদেশ নৌবাহিনী (Navy)
সমুদ্র অভ্যন্তরীণ ও বহির্গামী সক্ষমতা
সাবমেরিন ফ্লিট: ২টি Type-035G সাবমেরিন। (Wikipedia)
ফ্রিগেট ও কর্ভেট: Type-053H3 ও Type-056 কার্ভেটসহ বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ। (Wikipedia)
পদ্মা-ক্লাস ও দুর্জয়-ক্লাস পেট্রল ভেসেল। (Wikipedia)
টহল বিমান ও সহায়ক যানের ক্রয় ও স্থাপনা। (Wikipedia)
ঘাঁটি ও অবকাঠামো
বানৌজা শেখ হাসিনা সাবমেরিন ঘাঁটি (পেকুয়া), বানৌজা শেখ মুজিব ঘাঁটি (খিলক্ষেত) ইত্যাদি। (Wikipedia)
(গ) বাংলাদেশ বিমান বাহিনী (Air Force)
আইজি কমান্ড ও বেজ ভবন
দুইটি নতুন বিমান বেস: Cox’s Bazar এবং Dhaka-তে স্থাপিত। (Wikipedia)
আরও বেস নির্মাণ: Barishal ও Sylhet-এ। (Facebook)
সরঞ্জাম ও ক্ষমতা
রাডার ও এয়ার ডিফেন্স: Selex RAT-31DL AESA, Kronos Land 3D radar। (Wikipedia)
উন্নত প্রশিক্ষণ ইউনিট: 105 Advance Jet Training Unit। (Wikipedia)
বিমান ক্রয়/সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ ক্রয়: Yak-130, K-8W, FM-90 surface-to-air, এবং Western MRCA/jets ক্রয়ের প্রস্তাব। (Bangladesh Military Forces)
Unmanned Combat Aerial Vehicle (UCAV): তহলে আলাদা উন্নয়ন। (Wikipedia)
(ঘ) দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প ও সহায়ক উদ্যোগ
Forces Goal 2030 পরিকল্পনা দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে শক্তিশালী করার ওপর জোর দেয়:
বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা: BD-08 assault rifles, LMGs ও অন্যান্য শেল তৈরি। (Wikipedia)
খুলনা শিপইয়ার্ড ও নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড: পদ্মা-ক্লাস ও দুর্জয়-ক্লাস জাহাজ নির্মাণ ইত্যাদি। (Wikipedia)
বাংলাদেশ অ্যারোনটিকাল সেন্টার: বিমান ও রাডার ওভারহলিং ও কিছু হার্ডওয়্যার নির্মাণ। (Wikipedia)
III. সাম্প্রতিক উন্নয়ন ও ব্যয় (Recent Updates & Spending)
বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা বাজেট ও ব্যয়
সামরিক বাজেটের ধারাবাহিকতা দেখা যায়, যদিও অর্থনৈতিক চাপের কারণে আমদানিকৃত সরঞ্জাম সংগ্রহে কিছু সীমাবদ্ধতা আছে।
২০২৪–২৫ এর বাজেট আনুমানিক USD 3.6 বিলিয়ন ছিল, এবং ২০২৫–২৬ এ প্রায় USD 3.35 বিলিয়ন নির্ধারিত হয়েছে (যদিও Taka এর মুল্য পরিবর্তনে ক্রয়ের ক্ষমতায় প্রভাব পড়ে)। (Wikipedia)
সাম্প্রতিক প্রকল্প/ক্রয়
Turkish T129 ATAK attack helicopters ক্রয়ের সম্ভাব্য চুক্তি আলোচনা চলছে, যা বিমান বাহিনীর strike capability বড়াবে। (Defence Security Asia)
ARMY ও NAVY-তে ট্রেন্ডের মাধ্যমে MLRS ও guided rockets সফলভাবে ইন্ডাক্ট হয়েছে। (Defence Security Asia)
Air Force-এর আধুনিক multi-role jet ও western origin fighter jets নিয়ে আলোচনাও ত্বরান্বিত। (Wikipedia)
সারসংক্ষেপ
Forces Goal 2030 হলো বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির রূপরেখা, যার লক্ষ্য:
সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীকে আধুনিক, মাল্টি-ডাইমেনশনাল, ও প্রযুক্তিভিত্তিক বাহিনী হিসেবে উন্নীত করা। (Wikipedia)
নির্দিষ্ট ক্রয়, ইউনিট গঠন, নেটওয়ার্ক সক্ষমতা ও দেশীয় শিল্প উন্নয়ন।
বাজেট বরাদ্দের সঙ্গে সামরিক ক্ষমতার ভারসাম্যপূর্ণ বৃদ্ধির পরিকল্পনা। (newagebd.net)
আপনি চাইলে আমি Forces Goal 2030-এর বিশ্লেষণাত্মক SWOT (Strengths/Weaknesses/Opportunities/Threats) অথবা বিভাগভিত্তিক ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য ক্রয় (2026–2030) আলাদা করে সাজিয়ে দিতে পারি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন
মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ