4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: ইসকন আর হিন্দু এক নয় > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

বুধবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৪

ইসকন আর হিন্দু এক নয়

 


ভক্তি বনাম কর্ম: ‘সুখের শর্টকাট’ কি হিন্দু দর্শনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

ধর্মীয় বিশ্বাস মানুষের জীবনে নৈতিকতা, আশা ও জীবনের অর্থ অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে যখন কোনো ধর্মীয় ব্যাখ্যা মানুষের সামনে “অনন্ত সুখের শর্টকাট” হিসেবে উপস্থাপিত হয়, তখন তা দার্শনিক ও নৈতিক প্রশ্নের জন্ম দেয়। বিশেষ করে হিন্দু দর্শনের মতো কর্মনির্ভর একটি চিন্তাধারার সঙ্গে এই ধরনের সহজ মুক্তির ধারণা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—তা গভীরভাবে বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

হিন্দু দর্শনের মূল ভিত্তি হলো কর্মতত্ত্ব। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, প্রতিটি কর্মের একটি অনিবার্য ফল রয়েছে এবং সেই ফলই নির্ধারণ করে ভবিষ্যৎ জীবন, পুনর্জন্ম বা মুক্তির পথ। এখানে স্থায়ী স্বর্গ বা নরকের ধারণা গৌণ; বরং মানুষের বর্তমান আচরণই তার ভবিষ্যৎ অস্তিত্ব নির্ধারণ করে। এই দৃষ্টিভঙ্গি একটি নৈতিক দায়িত্ববোধ তৈরি করে—মানুষ জানে, তার প্রতিটি কাজের জন্য তাকে ফল ভোগ করতেই হবে।

কিন্তু ভক্তিকেন্দ্রিক কিছু আন্দোলনে এমন ধারণা প্রচার করা হয় যে, কেবল ঈশ্বরের প্রতি নিঃশর্ত ভক্তি থাকলেই পাপের প্রভাব নষ্ট হয়ে যায় এবং মুক্তি নিশ্চিত হয়। এই ধারণা অনেকাংশে খ্রিস্টধর্মের একটি প্রচলিত বিশ্বাসের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ, যেখানে বলা হয়—যীশুকে বিশ্বাস করলেই পাপ ক্ষমা হয়ে যায়। প্রশ্ন হলো, এই চিন্তাধারা কি হিন্দু কর্মদর্শনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ?

যুক্তির দিক থেকে বিচার করলে, এই ধরনের ভক্তি-কেন্দ্রিক “শর্টকাট মুক্তি” ধারণা কর্মতত্ত্বকে দুর্বল করে দেয়। যদি কর্মের ফল ভক্তির মাধ্যমে এড়িয়ে যাওয়া যায়, তবে নৈতিক দায়িত্ববোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মানুষ তখন নিজের কর্মের দায় স্বীকার না করে শুধুমাত্র ভক্তির আশ্রয় নিয়ে আত্মতুষ্টিতে ভুগতে পারে। ফলে ধর্ম আত্মশুদ্ধির পথ না হয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ারে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

হিন্দু পুরাণের মধ্যেই এই যুক্তির শক্তিশালী প্রতিফলন দেখা যায়। ভগবান বিষ্ণুর অবতার কৃষ্ণ—যিনি পরমেশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত—তাঁকেও কর্মফলের বাইরে রাখা হয়নি। রামের জীবনে সংঘটিত এক অন্যায়ের ফল কৃষ্ণের জীবনে এসে প্রতিফলিত হয়। এই কাহিনি স্পষ্টভাবে দেখায় যে, কর্মের আইন এমনকি ঈশ্বরের মানব অবতারের ক্ষেত্রেও অকার্যকর হয় না। সুতরাং কর্মতত্ত্বকে উপেক্ষা করে কেবল ভক্তিকে মুক্তির একমাত্র উপায় হিসেবে দাঁড় করানো হিন্দু দর্শনের মৌলিক ভাবনার পরিপন্থী।

এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—এই ধরনের সহজ সুখ ও মুক্তির প্রতিশ্রুতি সাধারণত সেইসব মানুষকে আকৃষ্ট করে, যারা আত্মসংযম, নৈতিক সংগ্রাম ও আত্মসমালোচনার কঠিন পথ এড়িয়ে যেতে চায়। ফলে ধর্মীয় চর্চা আত্মউন্নয়নের বদলে আত্মকেন্দ্রিক সুবিধাবাদের রূপ নিতে পারে।

সবশেষে বলা যায়, ভক্তি নিঃসন্দেহে হিন্দু দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, কিন্তু তা কখনোই কর্মের বিকল্প নয়। ভক্তি ও কর্ম—এই দুইয়ের সমন্বয়েই হিন্দু দর্শনের পূর্ণতা। যে দর্শন মানুষকে তার কর্মের দায় থেকে মুক্ত করে কেবল আশ্বাসের উপর দাঁড় করায়, তা হিন্দু দর্শনের গভীর নৈতিক ও দার্শনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না। প্রকৃত মুক্তি কোনো শর্টকাটে নয়; বরং সচেতন কর্ম, নৈতিক জীবন এবং আত্মজিজ্ঞাসার মাধ্যমেই তা অর্জনযোগ্য।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

ব্যাফোমেট, কুফুরী বিদ্যা ও ইলুমিনাতির আদ্যোপান্ত

  মানবজাতির ইতিহাসের সূচনা হয়েছে হযরত আদম (আ.)-এর মাধ্যমে। আল্লাহ তায়ালা তাঁকে সৃষ্টি করার পর ফেরেশতাদের সঙ্গে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের ঘোষণা দেন এ...