4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: জামায়াতের রাজনৈতিক বেশ্যাবৃত্তি বা পলিটিকাল প্রস্টিটিউশন বন্ধ হওয়া দরকার > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

শনিবার, ২১ ডিসেম্বর, ২০২৪

জামায়াতের রাজনৈতিক বেশ্যাবৃত্তি বা পলিটিকাল প্রস্টিটিউশন বন্ধ হওয়া দরকার

  জামায়াতের রাজনৈতিক বেশ্যাবৃত্তি বা পলিটিকাল প্রস্টিটিউশন বন্ধ হওয়া দরকার



যেহেতু হিন্দু-মুসলিম দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত বর্ষ ভাগ হয়েছিলো সেহেতু যদি কোনো ভারতীয় হিন্দু অখন্ড ভারতের পক্ষে কথা বলে এবং যুদ্ধ করে সেটা যেমন দোষের নয় তেমনি কোনো পাকিস্তানি মুসলিম অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে কথা বললে কিংবা পাকিস্তানের অখন্ডতার জন্য যুদ্ধ করলে তাও দোষের নয়।

সে হিসাবে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াত যদি অখন্ড পাকিস্তানের পক্ষে থেকে থাকে তাতে দোষের কি ছিলো তা আমার বোধগম্য নয়। তখনকার জামায়াতে ইসলামীর নেতারা এখনকার জামায়াতের নেতাদের মতো এত গবেট টাইপের ছিলো না, ওরা ৫০ বছর পরে কি হবে তা আগে অনুমাননকরতে পারত , কিন্তু এখনকার মাথা মোটা জামায়াত নেতা গুলা কাল কি হবে তা নিয়েও ভাবনার প্রয়োজন মনে করে না। জামায়াত নেতারা জানতো যে পাকিস্তান আলাদা হলে পূর্ব পাকিস্তান যে ভারতের গোলাম হবে, আর আমদের দেশের মাথামোটা রাজনীতি বিদরা বুঝতে ৫৪ বছর লাগছে। এখন প্রশ্ন হলো জামায়াত ৭১ সালে স্বাধীনতা যুূ্দ্ধ চলাকালীন তাদের ভূমিকা নিয়ে। আন্তর্জাতিক যোদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালে এই অপরাধের কথিত বিচার হয়েছে, কিন্তু বিগত স্বৈরাচারী সরকার পতনের পর বুঝা যাচ্ছে এই বিচারটাও ছিলো সাজানো। এতে বুঝা গেলো জামায়াতের বিষয়ে যতটা না ঘটেছিলো তার চেয়ে বেশী রটিয়েছে এই ভারত পন্থীরা। 

এখন প্রশ্ন হলো ১৯৭৭ সালে মেজর জিয়াউর রহমানের বহুদলীয় গনতন্ত্র চালুর পর জামায়াতের রাজনৈতিক নষ্টামি গুলো দেখে। এরা ইসলামি দল, ইসলামি সমাজ ও ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় চেষ্টা চালানোর লক্ষ্যকে সামনে রেখেই কাজ করে বলে রাজনীতি করছে কিন্তু বিগত ৪৪ বছরে তাদের বার বার রাজনৈতিক জোট পরিবর্তন ও গবেটপনা তাদেরকে রাজনৈতিক প্রস্টিটিউটে পরিনত করছে। আসেন তার প্রমান দেই।

★ ১৯৮৬ সালে জামায়াত, আওয়ামিলীগ, বিএনপি সহ সকল দল সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিলো যে তারা ১৯৮৬ সালে স্বৈরাচারী এরশাদের নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে না, তার পর আওয়ামিলীগ ও জামায়াত এরশাদের টাকার ব্যাগ দেখে তাদের লোভ সামলাতে পারে নি, নির্বাচনে অংশগ্রহন করে তৎকালীন স্বৈরাচার এরশাদকে বৈধতা দেয় জামায়াতে ইসলামী ও আওয়ামিলীগ।  জাতির সাথে বেইমানী করে তখন আওয়ামিলীগ এর সাথে হাত মিলিয়ে, স্বৈরাচারের সাথে আঁতাত করে, হয়ে যায় ৮৬'র বেইমান। এখন প্রশ্ন হলো জামায়াতের এই পল্টিবাজী বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় কি উপকার করেছিলো? কত টুকু ইসলাম প্রতিষ্ঠা হয়েছিলো?

★ ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত একক ভাবে নির্বাচন করেছিলো, পেয়েছিলো ১৮ টি আসন। তারা ৮৬তে বিএনপির সাথে বেঈমানী করে আওয়ামিলীগের সাথে হাত মিলিয়ে এরশাদের পাতানো র্নিবাচনে গেলেও মুহূর্তেই ৫ বছর আগের রাজনৈতিক জোটের অংশ আওয়ামিলীগকে তালাক দিয়ে বিএনপির সাথে সরকার গঠন করে বসে। ভুলে যায় আওয়ামিলীগ এর সাথে থেকে জাতির সাথে বেঈমানী করে ৮৬'র নির্বাচনে অংশগ্রহনের কথা।

১৯৯১হতে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত এই জামায়াত ইসলাম প্রতিষ্ঠায় কি অবদান রেখেছে এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠায় কতটুকু অর্জন জাতির সামনে জামায়াত তার হিসাব দিতে পারবে?

★ ১৯৯৬ সালে সংবিধান বহির্ভুত নতুন করে তত্বাধায়কের দাবীতে আন্দোলন শুরু করে জামায়াত। আবার পুরাতন সঙ্গী আওয়ামিলীগের সাথে জোট বেঁধে আন্দোলন শুরু করে। হাসিনার বাসায় জামায়াত নেতারা, আবার জামায়াতের নেতাদের বাসায় আওয়ামী রেজিমের নেতারা আড্ড শুরু করে। ৭৭ দিন হরতালের পর আওয়ামিলীগের সাথে জামায়াতের যৌথ অর্জন হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। গুটি কয়েক আসন পেয়ে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামিলীগ এর সাথে মিলে সরকার গঠন করে ৫ বছর দেশ চালায় তারা। ১৯৯৬-২০০১ এই ৫ বছর দেশ চালায় জামায়াত- আওয়ামিলীগ,  কিন্তু বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠায় কি উপকার হয়েছে তার হিসাব কি জামায়াত দিতে পারবে?

★ ২০০১ সালে আবার জামায়াত হাস্যকর ভাবে ৫ বছর আগে আন্দেলন হতে নির্বাচিত বিএনপি নামক দলকে হটানোর পর আবার দলটির সাথে জোট করে। যায় ক্ষমতায়, শাসন করে ৫ বছর। তখন জমি ব্যবসার নামে ভূমির দাম বৃদ্ধি করে দেশে গৃহহীন মানুষ তৈরী, হাউজিং ব্যবসার নামে মানুষের জমি কৌশলে দখল, আইপিএল, আইসিএল এর নামে হালাল সুদের ব্যবসা, এমএলএম ব্যবসার মত হায় হায় কোম্পানীর নামে মানুষের নিকট হতে বিলিন বিলিয়ন টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মূল গোড়ায় ছিলো এই জামায়াতের লোকেরা। তখন ইসলামী অর্থ ব্যবস্থার নামে সুদ ব্যবসাকে হালাল করেছিলো এই জামায়াত। কেন্দ্র এগুলো দেখে টু শব্দটিও করে নি,কারন যেভাবেই হোক টাকার দরকার।

শুধু মাত্র আইসিএলের বাটপারীর কারনে চৌদ্দগ্রামেই ৪৫০টির মতো প্রবাসীর স্ত্রীর তালাক হয়েছে। আইসিএল বলতো ইসলামী উপায়ে তারা ২০% লভ্যাংশ দেবে, এই আশায় প্রবাসীর স্ত্রীরা জমানো টাকা আইসিএলের নিকট জমা রেখে ২০% লাভের টাকায় কুমিল্লা শহরে গিয়ে বাসা ভাড়া করে সন্তানদের ভালো স্কুলে পড়ানো শুরু করে,তার পর হঠাৎ যখন শফিকুর রহমান জামায়াত ত্যাগ করে জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে টাকা সহ পালিয়ে যায়, তখনই বাঁধে বিপত্তি, স্ত্রীরা টাকার হিসাব দিতে না পেরে স্বামীর সাথে শুরু হয় মনোমালিন্য, হয়ে যায় ৪৫০ জন নারীর ডিভোর্স, এতিম হয় কয়েক হাজার অবুঝ শিশু। আজ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় ভাবে কিছু বলে নি এবং এই স্বামী হারা নারী ও মা হারা সন্তানদের অভিশাপ যে তাদের উপর পড়ছে এবং এটা পাপ হয়েছিলো তাও তারা না বুঝার ভান ধরে আছে।ইসলাম প্রতিষ্ঠায় কি উপকার হলো এতে?

জামায়াত নেতারা ইদানীং আবার নির্বাচনী প্রচার ব্যতিতই বিভিন্ন ছবি দিয়ে পোস্টার বানাচ্ছে, এটা জায়েজ কি মা তা জিজ্ঞেস করলে কোনো জবাব তো দেয়ই না বরং উল্টাপাল্টা গালিগালাজ করে,মনে করে মানুষ এসব বুঝে না।

২০২৪ বিপ্লব পরবর্তীতে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সকল রাজনৈতিক দল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সন্ত্রাসীদের পূজা মন্ডপে আক্রমনের ভয়ে পূূজা মন্ডপে গিয়ে সবাই পাহাড়া দিয়েছে। সুন্দর অসাম্প্রদায়িক চেতনা, সব দলই হিন্দুদের সহায়তা করেছে।কিন্তু জামায়াত কি করলো? সরাসরি মন্ডপে গিয়ে গান গাওয়া থেকে শুরু করে গীতা পাঠ পর্যন্ত করলো। উত্তর দিলো এটা নাকি রাজনৈতিক কারনে। অথচ কোনো কারনেই  শরীয়ত লঙ্ঘন সম্ভব না। জামায়াত নিজেকে ইসলামি দল দাবি করলেও ভোটের জন্য শরীয়ত লঙ্ঘন করা শুরু করেছে। 

বার বার শুধু ক্ষমতার জন্য কোনো দলের আদর্শ পরিবর্তন রাজনৈতিক বেশ্যা বৃত্তি বা রাজনৈতিক প্রস্টিটিউশন ছাড়া আর কিছুই না। এ ধরনের রাজনৈতিক প্রস্টিটিউশন বন্ধ হওয়া দরকার, অন্তত ইসলামের নামে চালিত দল গুলো। কেননা ইসলাম এই ভাবে প্রতিষ্ঠা সম্ভব না।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য

  ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...