4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: ভন্ড পীর ও বলদ মূরীদের অবস্থা > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪

ভন্ড পীর ও বলদ মূরীদের অবস্থা

 "ভন্ড পীর ও বলদ মুরীদের অবস্থার গল্প"



একটি সত্য ঘটনা দিয়ে শুরু করি। ১৯৯০-৯১ সালের কথা।  তখন আমাদের এলাকায় খুব একটা লোক বিদেশে যেত না। তৎকালীন রবিউল আলম ভাই কুয়েতে প্রবাসে থাকত। আমরা সবাই জানি কুয়েতে উনি অনেক টাকার মালিক। কুয়েতে কি জানি একটা সরকারী বড় চাকুরী করে। অনেক টাকার মালিক। দেশে থাকতে যদিও মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবন কাটাত কিন্তু প্রবাসে গিয়ে ভাই প্রচুর টাকা কড়ি ইনকাম করেছেন। আগে ছনের চালার ঘর থাকলেও বর্তমানে সেমি পাকা দালান। ওনি এত টাকা ইনকাম করত যে সবাই আদর করে দিনার ডাকত(কুয়েতের দীনারের নামানুসারে)। আমরাও দীনার ভাই ডাকতাম।


 উপসাগরীয় যুদ্ধের কারনে দেশে ছুটিতে এসেছে। তবে এবারের ছুটিতে হাত খালি, যুদ্ধের কারনে দেশে তেমন কিছু নিয়ে আসতে পারে নি। আসার পর এবার সবাই জিজ্ঞেস করল তাকে কিসের চাকরি করে, তিনি বল্লেন আমি ওসি, ডিসির চাকরি করি। অন্যবার সবাই না জানলেও এবার পুরো থানা জানা জানি হল যে সে ওসি, ডিসির চাকুরী করে, তাও আবার কুয়েতে! 

এমনিতে বাংলাদেশে ডিসি অফিসের পিওনের যা টাকা, আর এত ধনী দেশের ডিসির না জানি কত টাকার মালিক!

এদিকে আমাদের পাশের গ্রামের হাবিজুদ্দি জমিদার দাদার নাতনী মানে শিশু (নামই শিশু মিয়া) কাকার এক মেয়ে আমাদের অনেক সিনিয়র আপু। শিশু কাকা দীনার ভাইয়ের বাবা কে ওই আপুর জন্য অন্য বিয়ের প্রস্তাব পাঠায় দীনার ভাইয়ের জন্য। আপু আইয়ে পাশ আর দীনার ভাই পঞ্চম শ্রেনী পাশ। আপু প্রথমে দীনার ভাইকে বিয়ে করতে রাজি ছিল না, কিন্তু শিশু কাকা মানে আপুর বাবা ও দাদার বুঝাল যে কুয়েতের ডিসি এর চেয়ে ভাল পাত্র আর পাবেনা। আপু অনেক সুন্দরী আর সাবেক জমিদার পরিবারের মেয়ে ছিল আর ভাইয়া ছিল নিগ্রোর মত, তবু ডিসির চাকুরির কথা ভেবে রাজি হল। এদিকে দীমার ভাই বেঁকে বসল তাঁর হাতে তেমন টাকা নাই। পরের ছুটিতে এসে বিয়ে করবে। শিশু কাকা নাছর বান্দা বিয়ে দিয়েই ছাড়বে  মানে ডিসি দীনার ভাইকে জামাই করবেই। কাকা বল্ল কিছু লাগবে না সব খরচ শিশু কাকা বহন করবে। তার পর ভাইয়া রাজি হয়ে বিয়ে করল। ভাইয়ার হাত আসলে এত খালি ছিল বাসর রাতে আপুকে ১টা আংটিও দিতে পারে নি। যাই হোক আপু অনেক কষ্টে নিজেকে সামলে সব পরিস্থিতি মানিয়ে নিল। ভাইয়া আশ্বস্ত করল আগামী ছুটিতে আসলে অনেক কিছু দিবে।

কিছুদিন পর ইরাক-কুয়েত যুদ্ধ থামল, ভাইয়া বিদেশ চলে যাবে। আপু খুব ভাল পিঠা বানাত। তাই দীনার ভাইকে বল্ল  ঐদেশে এয়ারপোর্ট হতে যখন গাড়ি দিয়ে আপনাকে নিয়ে যাবে তখন এগুলো খাবেন। আর বাকি গুলো আপনার ড্রাইভারকে দিয়ে দিয়েন। ভাইয়া একথা শোনে বলে আমাকে আবার কে গাড়ি দিয়ে নিয়ে যাবে?

আপুঃ কেন ও দেশে ডিসিদের সরকারী গাড়ি নাই।

দীনার ভাইঃ আছে ত, থাকবে না কেনো?

আপুঃ ত তোমার নাই কেনো, তুমি না ওসি, ডিসির চাকরি কর? তোমাকে দেয় না কেন? বাংলাদেশী বলে?


দীনার ভাইঃ আরে আমি ত সেই ওসি ডিসি না.....

আপুঃ ত........


দীনার ভাইঃ আরে ওসি(O.C) মানে ওনিয়ন কাটার(onnion cutter) মানে পেঁয়াজ কাটুনে আর ডিসি(D.C) মানে বাসন দোয়া(Dish cleaner).


পরের ঘটনা বলব না।


এখন আমাদের দেশের মূর্খ পীর আর বলদ মূরীদের অবস্থাও তাই।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য

  ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...