4547715 ডা.বশির আহাম্মদ: আ:ওহাব নযদির পথ ভ্রষ্ট হওয়ার ইতিহাস > expr:class='"loading" + data:blog.mobileClass'>

Wikipedia

সার্চ ফলাফল

মঙ্গলবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪

আ:ওহাব নযদির পথ ভ্রষ্ট হওয়ার ইতিহাস

 "একজন আব্দুল ওহাব নযদির পথ ভ্রষ্ট হওয়ার ইতিহাস"

ছবিতে পথ ভ্রষ্ট আ:ওহাব নযদি


আজ বর্ননা করব "কমনওয়েলথ এজেন্ট ও ব্রিটিশ গোয়েন্দা ড.হামফেরী কর্তৃক একজন মুহাম্মদ আব্দুল ওহাব নযদিকে পথ ভ্রষ্ট করার কৌশল ও ইতিহাস।

হ্যামফারের ডায়েরিতে সে যা উল্ল্যেখ করে তা হুবহু দেওয়া হলো:

আমি নজদের মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওহাব-এর সাথে এক মধুর বন্ধুত্ব ও গভীর অন্তরঙ্গতা সৃষ্টি করি। আমি সর্বত্র তার প্রসংশার কথা প্রচার করতে থাকি। একদিন আমি তাকে বললাম, তুমি উমর এবং আলির চেয়ে উত্তম। রাসূল সা. জীবিত থাকলে তিনি তাদের পরিবর্তে তোমাকে খলিফা হিসেবে নির্বাচিত করতেন। আমি আশা করছি তোমার হাতে ইসলাম পুনঃসংগঠিত হবে এবং উন্নতি লাভ করবে।

তুমিই একমাত্র ইমাম যে ইসলামকে সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিতে পারবে।

আব্দুল ওহাবের পুত্র মুহাম্মদ এবং আমি উভয়ে পবিত্র কুরআনের নতুন তাফসির করতে শুরু করি। এ নতুন পরিকল্পনা ছিল শুধুমাত্র আমার উদ্দেশ্যকে বাস্তবে প্রতিফলিত করা এবং আমাদের তাফসির হবে সাহাবা, মাজহাবের ইমাম এবং মুফাচ্ছিরদের তাফসিরের বিপরীত। আমরা কুরআন তিলাওয়াত করতাম এবং কোন আয়াতের বিষয়ে আলোচনা করতাম। আমার উদ্দেশ্য ছিল, নজদের মুহাম্মাদকে ভুলপথে পরিচালিত করা। সর্বোপরি সে নিজেকে একজন সংস্কারক হিসেবে তুলে ধরতে চেষ্টা করছিল এবং সে সন্তুষ্টির সাথে আমার মতামত গ্রহণ করতো। কারণ আমি যেন তার প্রতি অধিক বিশ্বাসভাজন থাকি।


কোন এক উৎসবে তাকে বললাম, “জিহাদ করা ফরয নয়”। সে প্রতিবাদ করল, কেন ফরয হবে না। এ ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশ রয়েছে “যুদ্ধ কর কাফেরদের বিরুদ্ধে।”( সূরা তাওবা, আয়াত-৭৩) (আমি বললাম, তাহলে রাসূল সা. কেন আল্লাহর আদেশ সত্ত্বেও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেননি।” অপরদিকে মাওয়াহিদু ইলাহিয়্যাতে লেখা আছে, অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে সাতাশটি জিহাদ পরিচালনা করা হয়েছিল। তাদের তরবারিগুলো ইস্তাম্বুলের যাদুঘরে প্রদর্শনীর জন্য রাখা আছে।


: মুনাফিকরা মিথ্যা মুসলিম হওয়ার ভান করতো। রাসূলুল্লাহ সা. তাদের সম্পর্কে জানতেন। তবুও তিনি তাদের কাউকে কিছু বলেনি যে, “তুমি একজন মুনাফিক”। যদি তিনি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করতেন এবং তাদের হত্যা করতেন তাহলে জনগণ বলতো, যারা মুহাম্মাদকে বিশ্বাস করে সে তাদেরকেও হত্যা করে। তাই তিনি তাদের বিরুদ্ধে মৌখিকভাবে জিহাদ ঘোষণা করেন। জিহাদ হচ্ছে ফরয, একজন মানুষ তার জীবন, তার সম্পদ কিংবা তার বক্তব্য দিয়ে জিহাদ করতে পারে। যে আয়াতে কারিমায় কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদের ঘোষণা দেয়া হয়েছে সেখানে কী ধরনের জিহাদ করতে হবে কিছু বলা হয়নি।


অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই যুদ্ধের মাধ্যমে জিহাদ করতে হবে। এবং মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ হবে ধর্মীয় প্রচারণা এবং উপদেশ দ্বারা। এ আয়াতে কারিমা দ্বারা এমন প্রকৃতির জিহাদের কথা বলা হয়েছে।)


তিনি বললেন- রাসূল সা. তাদের বিরুদ্ধে বক্তব্যের দ্বারা জিহাদ ঘোষণা করেছিলেন।


আমি বললাম- যে জিহাদ ফরয করা হয়েছে তা কি একজনের বক্তব্য দিয়েই পালন করা সম্ভব?


তিনি বললেন- রাসূল সা. অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। আমি বললাম- রাসূল সা. নিজকে রক্ষার জন্য অবিশ্বাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। কারণ অবিশ্বাসীরা তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল।” সে মাথা নোয়াল ।


পরে আবার অন্য এক সময় তাকে বললাম মুতানিকাহ ইসলাম কর্তৃক জায়েজ করা হয়েছে। সে আপত্তি করল, “না, তা করা হয়নি।”


আমি বললাম, আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, “তাদের ব্যবহারের বিনিময়ে তুমি তাদের জন্য নির্ধারিত মোহরানা পরিশোধ করবে।” (সূরা নিসা, আয়াত-২৪)।


সে বললো- উমর তার সময়ে মুতা বিবাহ নিষিদ্ধ করেছেন এমন দুটি উদহারণ আছে। “তিনি বলেছেন এটা যে করবে, তাকে শাস্তি দেয়া হবে।”


আমি বললাম- “তুমি দুই রকম কথা বলছো। তুমিই বলছো যে, তুমি উমর অপেক্ষা উত্তম। আবার তুমিই তাকে অনুসরণ করছো। অধিকন্তু উমর আরো বলেছিলেন, রাসূল সা. এ বিষয়ে অনুমতি ছিল তা জানা সত্ত্বেও তিনি নিষিদ্ধ করেছেন। তাহলে কেন তুমি নবীর কথাকে বাদ দিচ্ছ। এবং উমরের কথাকে প্রাধান্য দিচ্ছ?৩


সে কোন উত্তর করল না। আমি বুঝলাম, তাকে বুঝাতে সক্ষম হয়েছি। আবার মনে হলো মুহাম্মাদ নাজদী এখন একজন নারীর সংস্পর্শ চাচ্ছে। সে ছিল অবিবাহিত। তাকে বললাম, “আসো, আমরা প্রত্যেকে মুতা নিকাহের মাধ্যমে একজন নারী গ্রহণ করি। আমরা তাদের সাথে ভাল সময় উপভোগ করব। সে মাথা নেড়ে সমর্থন জানাল । এটা ছিল আমার জন্য এক সুবর্ণ সুযোগ। তাই তার সম্ভোগের জন্য একটা মেয়ে খুঁজে বের করার চেষ্টা করি। আমার উদ্দেশ্য ছিল তার লজ্জা-শরম দূর করা; কিন্তু এ বিষয়টি আমাদের মাঝে গোপন রাখতে হবে সে এমন শর্ত দিল। আমি তাড়াতাড়ি কমনওয়েলথ থেকে প্রেরিত খৃস্টান মেয়েদের কাছে গেলাম । যাদেরকে মুসলিম যুবকদের অপরাধের পথে পরিচালনার জন্য হয়।


পাঠানো হয়েছে। আমি পুরা ব্যাপারটা একজনের কাছে খুলে বললাম। সে সহায়তা করতে রাজি হলো। আমি মেয়েটির ডাক নাম দিলাম সাফিয়া। আমি নজদের মুহাম্মাদকে সাফিয়ার ঘরে নিয়ে গেলাম।


সাফিয়া তার ঘরে একা ছিল। আমরা নজদের মুহাম্মাদের সাথে সপ্তাহের জন্য বিবাহের চুক্তি করি, সে সাফিয়াকে মোহরানা হিসেবে কিছু স্বর্ণালঙ্কার দিল। আর এভাবেই আমরা নজদের মুহাম্মাদকে বিপদগামী করতে শুরু করি। সাফিয়া ভেতর থেকে, আর আমি বাহির থেকে ।


নজদের মুহাম্মাদ এখন সম্পূর্ণরূপে সাফিয়ার হাতের পুতুল। সে এখন ইজতিহাদ ও আদর্শের বিপরীত শরিয়তের আদেশ অমান্য করার স্বাদ পেয়ে গেল। মুতা নিকাহের তৃতীয় দিন মদ পান হারাম নয় এ নিয়ে এক দীর্ঘ বিতর্কে জড়িয়ে গেলাম। যদিও মদ পান করা হারাম তার পক্ষে সে বহু আয়াত ও হাদিস পেশ করল। আমি সে সব বাতিল করে দিয়ে পরিশেষে বললাম, এটা সত্য যে ইয়াযিদ ও উমাইয়া-আব্বাসিয় খলিফারা মদ পান করতেন। তারা কি সকলেই খারাপ লোক ছিলো। আর তুমিই একমাত্র সঠিক পথের অনুসারী? তুমি যা জান তার চেয়ে তারা অবশ্যই কুরআন-সুন্নাহ ভালো জানতো। তারা কুরআন থেকে এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, মদ পান করা মাকরূহ, হারাম নয়। ইহুদি ও খৃস্টানদের কিতাবেও মদ পান করা মুবাহ বলা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে সকল ধর্মই হচ্ছে আল্লাহর নির্দেশনামা। তাফসির বিশারদগণের মতে, সূরা নিসার ৯০ নং আয়াত আয়াত নাজিল হওয়ার আগ পর্যন্ত হযরত উমর মদপান করতেন। এটা যদি হারাম হত তাহলে নবী তাকে সংশোধনের জন্য শাস্তি দিতেন। যেহেতু রাসূল সা. তাকে শাস্তি দেননি, তাই তা হালাল। ৪


নজদের মুহাম্মাদ বলেন কিছু বর্ণনা মতে “উমর পানির সাথে মিশিয়ে মদ পান করতেন এবং বলতেন নেশার তীব্রতা না থাকলে তা হারাম নয়। উমরের উদ্দেশ্য সঠিক, কারণ কুরআনে ঘোষিত হয়েছে “শয়তান চায় মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মাঝে একটি শত্রুতা ও বিদ্বেশ সৃষ্টি করে দিতে এবং এভাবে তোমাদেরকে আল্লাহর জিকির ও নামাজ থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে। তোমরা কি এ কাজ থেকে ফিরে আসবে না? (সূরা মায়েদা আয়াত ৯১) এ আয়াত অনুযায়ী মদের নেশার তীব্রতা না হলে তা গুনাহের কারণ হবে না। তাই নেশার প্রতিক্রিয়া না হলে তা পান করা হারাম নয়।


আমি মদ পান সম্পর্কে এ বিতর্কের বিষয়টি সাফিয়াকে বললাম এবং নজদের মুহাম্মাদকে কড়া মদ পান পরিবেশনের নির্দেশ দিলাম। পরে সে বলল: “তুমি আমাকে যেভাবে বলেছো সেভাবেই তাকে মদ পান করিয়েছি। সে আমার সাথে নেচেছে। রাতে বেশ কয়েকবার আমার সাথে মিলিত হয়েছে।” এরপর থেকে সাফিয়া এবং আমি পুরাপুরিভাবেই নজদের মুহাম্মাদকে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিই। আমাদের বিদায় অনুষ্ঠানের ভাষণে কমনওয়েলথ মন্ত্রী আমাকে বলেছিল “আমরা মদ এবং নারীর সাহায্যে অবিশ্বাসীদের (মুসলমানদের) হাত থেকে স্পেন দখল করেছি। এ দুটি বৃহৎ শক্তি ব্যবহার করে আবার আমাদের ঐ সকল ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করতে হবে।” তার কথা কতটা সত্য তা এখন বুঝতে পারছি


একদিন নজদের মুহাম্মাদের কাছে রোযার প্রসঙ্গ উপস্থাপন করলাম। পবিত্র কুরআনে আছে, “রোযা তোমাদের জন্য অধিক কল্যাণকর।” (সূরা বাকারা, আয়াত-১৮৪) এটা বলা হয় নাই রোযা ফরয। তাহলে ইসলাম ধর্মে রোযা সুন্নত, ফরজ নয়।” সে বাধা দিয়ে বললো, “তুমি কি আমাকে বিশ্বাসচ্যুত করতে চেষ্টা করছো”? আমি উত্তর দিলাম, “একজনের বিশ্বাস হচ্ছে তার অন্তরের পবিত্র বিষয়, তার আত্মার মুক্তির বিষয়, অন্যের অধিকার থেকে বিচ্যুত করা নয়। রাসূল সা. কি বলেন নাই “বিশ্বাসই ভালোবাসা”? আল্লাহ কুরআনুল কারিমে কি ঘোষণা করেন নাই “আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা পর্যন্ত তার প্রার্থনা করো না। ( সূরা হিজর আয়াত ১১) কেউ যখন আল্লাহ এবং শেষ বিচার দিনে বিশ্বাস স্থাপন করে, এবং হৃদয়কে সুন্দর করে, এবং কর্মকে সংশোধিত করে, সে হবে মানুষের মধ্যে পবিত্রতম ব্যক্তি । সে আমার এ কথাগুলোর উত্তরে শুধু মাথা নাড়ল । এক সময় তাকে বললাম- “নামাজ ফরজ নয়”। -“এটা কেমন করে ফরয নয়”?


–“আমাকে স্মরণ করার জন্য নামাজ পড়ো” কুরআনের বর্ণনা। সুতরাং নামাযের উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহকে স্মরণ করা। তাহলে তো তুমি নামায না পড়েও আল্লাহকে স্মরণ করতে পারো।


সে বললো হ্যাঁ। শুনেছি কিছু মানুষ আল্লাহকে স্মরণ করার জন্য নামায না পড়ে আল্লাহর জিকির করে। তার এ ধরনের কথায় আমি খুব খুশি হলাম। তার এ ধারনাকে জোরদার করার জন্য তার হৃদয় জয় করতে চেষ্টা করলাম। পরে লক্ষ্য করলাম। সে নামাযের প্রতি খুব বেশি গুরুত্ব দিত না। বরং মাঝে-মধ্যে নামাজ পড়তো। বিশেষ করে সে ফজরের নামাজে খুব অবহেলা করতো। তার কারণ তাকে নানা বিষয়ে আলোচনার নামে মধ্যরাত পর্যন্ত জাগিয়ে রাখতাম। তাই সে ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামায পড়তে ক্লান্তি বোধ করত। এভাবে নজদের মুহাম্মাদের কাঁধ থেকে ধীরে ধীরে বিশ্বাসের চাদরটি নামিয়ে আনলাম।


একদিন তার সাথে রাসূল সম্পর্কেও তর্ক শুরু করতে চেয়েছিলাম। তখন সে বললো “তুমি যদি আমার সাথে এ বিষয়ে আলাপ করতে চাও তাহলে আমাদের সম্পর্ক এখানেই শেষ। তোমার সাথে আমাদের বন্ধুত্বের সমাপ্তি টানব।” এরপর থেকে রাসূলের সম্পর্কে আমি কথা বলা থেকে এ ভয়ে বিরত থাকি যেন সব চেষ্টা বরবাদ না হয়ে যায়।


তাকে সুন্নি ও শিয়াদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি পদ্ধতি চালু করার উপদেশ দিলাম। সে আমার পরামর্শকে সাদরে গ্রহণ করল। কারণ সে ছিল একজন দাম্ভিক লোক। সাফিয়াকে ধন্যবাদ। তাকে দিয়ে মুহাম্মাদ নজদীর গলায় রশি লাগাতে পেরেছি।


কোন এক সময় তাকে বললাম, “শুনেছি রাসূল সা. আসহাবদেরকে পরস্পরের মাঝে ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক তৈরি করেছেন। এটা কি সত্য? সে বলল হ্যাঁ। পুনরায় জানতে চাইলাম, এ সম্পর্ক কি স্থায়ী না অস্থায়ী? সে ব্যাখ্যা করলো, “এটা চিরস্থায়ী”। রাসূল সা.-এর হালাল করা বিষয় দুনিয়ার শেষ পর্যন্ত হালাল। তার হারাম করা বিষয় দুনিয়ার শেষ পর্যন্ত হারাম। তখন তাকে ভাই হওয়ার প্রস্তাব দিলাম। সুতরাং আমরা একে অন্যের ভাই হয়ে গেলাম ।


সেদিন থেকে তাকে কখনো একা ফেলে যাইনি। এমনকি আমি তার ভ্রমণের সময়ও একত্রে ছিলাম। সে ছিল আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। কারণ যে বৃক্ষটি রোপণ করেছি এবং তা বর্ধিত হচ্ছে, আমার যৌবনের মূল্যবান দিনগুলো ব্যয় করেছি, এখন গাছটি ফল দেয়ার অপেক্ষায়।


লন্ডনে কমনওয়েলথ মন্ত্রণালয়ে মাসিক রিপোর্ট পাঠাতাম। সে উত্তর আমি পেতাম তা ছিল খুব উৎসাহ ব্যাঞ্জক। এবং তা ছিল নিশ্চয়তাপূর্ণ। মুহাম্মাদ নজদী আমার পরিকল্পিত পথেই চলতে শুরু করেছে। আমার দায়িত্ব ছিল তাকে স্বাধীনচেতা, স্বাধীন মতামত প্রকাশ এবং সন্দেহবাদ সম্পর্কে উজ্জিবীত করা। আমি সর্বদা তার প্রশংসা করে বলতাম যে, এক উজ্জল ভবিষ্যত তার জন্য অপেক্ষা করছে।


একদিন তাকে নিম্নোক্ত মনগড়া স্বপ্নটি সাজিয়ে বললাম; “গতরাতে আমাদের রাসূলকে স্বপ্নে দেখেছি। হুজ্জা থেকে শিখা ভাষায় তাকে সম্বোধন করে বললাম। তিনি একটি মঞ্চে বসা ছিলেন। তার চারপাশে আলেমগণ ছিলেন, যাদেরকে আমি চিনি না। এমন সময় তুমি সেখানে প্রবেশ করলে। তোমার চেহারা ছিল জ্যোতির্লোকের ন্যায় উজ্জল। তুমি রাসূলুল্লাহ সা.-এর দিকে হেঁটে হেঁটে যাচ্ছ। তুমি তার কাছে পৌঁছলে রাসূল সা. ওঠে দাঁড়ালেন। তোমার উভয় চক্ষুর মাঝামাঝি চুম্বন করলেন। তিনি বললেন, “আমার নামে তোমার নাম, তুমি আমার জ্ঞানের উত্তরাধিকারী। দুনিয়া ও ধর্মীয় বিষয়ে তুমি আমার সহকারী।” তুমি তখন বললে, হে আল্লাহর আমার জ্ঞান জনগণের মাঝে ব্যাখ্যা করতে ভয় পাচ্ছি।” “তুমি মহান, ভয় পেয়ো না” রাসূল উত্তরে বললেন ।


মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওহাব এ স্বপ্নের কথা শুনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠলো। সে বার বার আমাকে জিজ্ঞাসা করলো তাকে যা বলেছি তা সত্যি কি না এবং সে যতবার আমাকে জিজ্ঞাসা করেছে আমি ইতি বাচক উত্তর দিয়েছি। পরিশেষে সে নিশ্চিত হয়েছে যে, তাকে যা বলেছি সবই সত্য। সেই থেকে জনগণের মাঝে একটি নতুন দল গড়ার লক্ষে সে তার নতুন মতাদর্শ প্রকাশ করতে লাগল ।


সূত্র: কমন ওয়েলথ-ব্রিটিশ গোয়েন্দা ড.হামফ্রেরীর লেখা জার্মান বাহিনী কর্তৃক উদ্ধার হওয়া ডায়েরী।


সংকলনে: ডা.বশির আহাম্মদ, লেখক, চিকিৎসক, জার্নালিস্ট ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কর্মী।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ

বাউল নামের ফাউল আর আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিদের পরিত্যাজ্য

  ইদানীং বাউলদের ফাউল আচরন আর সৃষ্টি কর্তার সাথে বেয়াদবীর সীমা অতিক্রম করেছে। আগের যুগে আইয়্যেমে জাহেলিয়াতের কবিরা যেরকম আচরন করত সেরকম আচরন...